Also read in

নিঃশব্দে আবার ফিরে আসছে করোনা! মেডিকেলের মহিলা চিকিৎসক সহ কাছাড়ে আক্রান্ত ১৬

প্রায় এক বছর আগে কাছাড় জেলায় প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গেছিল। নানা কঠিন মুহূর্ত দেখার পর মানুষের মনে করোনা ভাইরাস নিয়ে ভয় কমে গেছে এবং আমরা স্বাভাবিক জনসমাগমের প্রত্যেকেই যোগ দিচ্ছি। তবে করোনা ভাইরাস কিন্তু আমাদের থেকে খুব একটা দূরে নয়, স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী প্রায় প্রতিদিন একজন বা দুজন ব্যক্তি পজিটিভ হচ্ছেন। গতমাসে শিলচর মেডিকেল কলেজে করোনা ভাইরাস নিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল। রবিবার শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক মহিলা চিকিৎসক সহ দুই ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন। এখন কাছাড় জেলায় আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ১৬।

স্বাস্থ্যবিভাগের সূত্র অনুযায়ী শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক মহিলা চিকিৎসক আরটিপিসিআর পরীক্ষায় পজিটিভ হয়েছেন। অতীতে তার মা-বাবাও পজিটিভ হয়েছিলেন। পারিবারিক কোনও কাজে তিনি রাজ্যের বাইরে যাবেন বলে ঠিক করেছিলেন। নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী বিমানে যাত্রা করতে হলে কোভিড পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। তিনি শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রবিবার পরীক্ষা করান এবং এদিনই রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তবে তিনি অ্যাসিমটোমেটিক, অর্থাৎ করোনার বাহ্যিক উপসর্গ তারমধ্যে নেই, ফলে তাঁকে বাড়িতেই চিকিৎসাধীন থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তার সংস্পর্শে আসা প্রত্যেক ব্যক্তির পরীক্ষা আগামীতে করানো হবে এবং তাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে জনসমক্ষে না যেতে।

কাছাড় জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী কাছাড়ে এখন আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ১৬, এরমধ্যে শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিন ব্যক্তি। বাকিদের বাড়িতেই হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা একেবারেই নগণ্য নয়। গতমাসে শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা ভাইরাসে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডাঃ বাবুল বেজবরুয়া জানিয়েছেন, তারা আবার করোনার বড়োসড়ো ঢেউ আসার সম্ভাবনা দেখছেন। এমনকি হাসপাতালকে আবার প্রস্তুত রাখা হচ্ছে যাতে একসঙ্গে বেশি আক্রান্ত ব্যক্তি এলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়। তিনি বলেছেন, “ইতিমধ্যে দ্বিতীয় ঢেউ সারাদেশে আছড়ে পড়েছে এবং আমরাও এর থেকে একেবারেই দূরে নই। প্রত্যেক ব্যক্তিকে এখন থেকে সাবধান হওয়া উচিত, অন্তত জনসমক্ষে মাস্ক পড়া এবং ভিড় থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন।”

দেশে করোনার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বড় আকার নিতে শুরু করেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, গত চব্বিশ ঘণ্টায় ১,০৩,৫৫৮ টি নতুন সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এখন দেশে প্রায় সাত লক্ষ লোক করোনা আক্রান্ত রয়েছেন। কিছুদিন আগে কাছাড় জেলায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে, তার শরীরে করোনার সংক্রমণ ছিল। সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য হলেও জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের রিপোর্ট অনুযায়ী কিছু কিছু লোক করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

নির্বাচনী প্রচারে প্রত্যেক দলের জনসমাগম হয়েছে এবং সেখান সামাজিক দূরত্ব বা মাস্ক পড়ার কোনও বালাই ছিল না। এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা রবিবার এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন কোনও ব্যক্তির জন্য মাস্ক পরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক না ছড়ান। তিনি বলেছেন নির্বাচনের প্রক্রিয়া শেষ হলে রাজ্যে ধুমধাম করে বিহু উৎসব পালিত হবে, অবশ্যই সেখানে করোনাভাইরাস এর কোনও ভয় থাকবে না। তবে সময় এলে তিনি ঘোষণা করবেন রাজ্যে মাস্ক পড়া জরুরী এবং তখন যদি কেউ মাস্ক না পড়েন তাহলে ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। তবে কি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন বিহুর পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি আরেকটু কঠিন হতে চলেছে? এই উত্তর অবশ্যই একমাত্র সময় দিতে পারে।

Comments are closed.