Also read in

এ ও এর বিরুদ্ধে মামলা, ঘরের শত্রু বিভীষণদের স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার!

অসম অলিম্পিক সংস্থা এবং শিলচর জেলা ক্রীড়া সংস্থার লড়াই এবার আদালতে গড়িয়েছে। শিলচর ডি এস এর সদস্যপদ বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতে মামলা ঠুকেছেন জিবি সদস্য তথা ক্রীড়া সংগঠক প্রণবানন্দ দাশ। এবার মামলার শুনানি শুরু হবে। মহামান্য আদালতেই এই মামলার বিচার হবে।

এ ও এর বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত হওয়ায় স্থানীয় ক্রীড়ামহলের অধিকাংশই খুশি। ‌ অসম অলিম্পিক সংস্থা যেভাবে একগুঁয়েমি মনোভাব দেখিয়ে শিলচর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যপদ বাতিল করেছে এতে চরম অপমানিত বোধ করছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। কোনো ভ্যালিড পয়েন্ট ছাড়াই সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে শিলচর এর সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে। ‌ এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা। নিজেরাই সংবিধানের অবমাননা করে শিলচর জেলা ক্রীড়া সংস্থা কে সংবিধান নিয়ে জ্ঞান দিচ্ছে এ ও এ। অথচ একটু সদিচ্ছা থাকলেই এই বিবাদের একটা মীমাংসা করে দিতে পারতো অসম অলিম্পিক সংস্থা। তবে তারা এমনটা করেনি। উল্টো প্রতিনিয়ত শিলচরের অপমান করেছে। সবশেষে সদস্য পদ বাতিল করে অপমানের ষোলকণা পূর্ণ করেছে।

অসম অলিম্পিক সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় স্থানীয় খেলোয়াড় থেকে শুরু করে সংগঠকরাও খুশি। তারা মনে করেন দিনের পর দিন এ ও এ যেভাবে শিলচর জেলা ক্রীড়া সংস্থার অপমান করে গেছে এবার আদালতে তার একটা ন্যায় বিচার হবে। আবার এমনও কিছু রয়েছেন যাদের একই ইস্যুতে খুশির কারনটা একটু ভিন্ন। তারা খুশি কারণ, এ ও এর বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই কমিটি বহাল থাকবে। নিজ নিজ পদে থাকতে পারবেন শিলচর জেলা ক্রীড়া সংস্থার পদাধিকারীরা।‌

আবার এমনও রয়েছেন যাদের এই মামলার ফলে ‘বিরাট ক্ষতি’ হয়ে গেছে। তাদের স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। আসলে শিলচর জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্ষমতা দখলের জন্য একটা রোডম্যাপ তৈরি করেছিল এ ও এ। এর প্রথম পর্যায়ে ছিল সদস্য পদ বাতিল। দ্বিতীয় পর্যায়ে ছিল সদস্য পদ বাতিল করার পর একটা কমিটি গঠন করে দেওয়া। আর তৃতীয় ও চূড়ান্ত ধাপে ছিল এডহক কমিটি গঠন করে দিয়ে শিলচর ডি এস এর ক্ষমতা দখল। প্রথম দুটি কাজ ‘সুষ্ঠভাবে’ সম্পন্ন করার পর তৃতীয় পর্যায়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল এ ও এ। আর শিলচর ক্রীড়াঙ্গনের বিভীষণরা সেই এডহক কমিটির সদস্য হবার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন।

শিলচর ডি এস এর বর্তমান কমিটিতে এমন কিছু পদাধিকারীও রয়েছেন যারা শুরু থেকেই বিজেন্দ্র প্রসাদ সিংয়ের ‘এন্টি’ করে গেছেন। পর্দার আড়াল থেকেই। এ ও এর বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় সেই সব পদাধিকারীদের স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেছে। ‌ তারা স্বপ্ন দেখছিলেন, এক মাস পর এও এ শিলচর জেলা ক্রীড়া সংস্থার জন্য একটা এডহক কমিটি করে দেবে। সেই কমিটি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করবে। আর সেই এডহক কমিটিতে তারা স্থান পাবেন। সে দিকে চোখ রেখেই গুটি সাজাচ্ছিলেন। তবে এবার অসম অলিম্পিক সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত হওয়ায় তাদের সব আশা মাটি হয়ে গেছে।

আসলে এইসব ঘরের শত্রু বিভীষণদের জন্যই শিলচরের স্পোর্টস এগিয়ে যেতে পারছে না। এইসব অকর্মণ্য পদাধিকারীরা খেলাধুলার অ, আ না বুঝলেও রাজনীতিটা খুব ভালো করেই বোঝেন। এদের মধ্যে অনেকেই সেই আঙ্গিনা থেকে এসেছেন। না, রাজনীতির আঙ্গিনা থেকে স্পোর্টসে আসা কোনো অপরাধ নয়। তবে মনে রাখতে হবে শুধু পদ আঁকড়ে বসে থাকলেই হবে না। শুধু ক্ষমতা দখলের মানসিকতা নিয়ে ময়দানে আসলে হবে না। খেলাধুলার উন্নতির মানসিকতা থাকতে হবে। সমস্যা হচ্ছে, এইসব বিভীষণদের আপনি মাঠে ময়দানে দেখতে পাবেন না। তবে কোনো অনুষ্ঠান হলে দেখবেন মঞ্চতে চেয়ার জুড়ে বসে আছেন। ফটোসেশনে এদের প্রথম সারিতে দেখবেন। কিন্তু যখনই কোনো খেলোয়াড়ের স্বার্থ নিয়ে কথা বলার সময় আসে তারা পেছনের সারিতে চলে যান। তখন আর তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।

আরও একটি বিষয় হচ্ছে, বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে বরাক ব্রহ্মপুত্র সমন্বয় গড়তে অনেক কথা বলা হচ্ছে। পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে। এমন একটা সময়ে এ ও এর এই একগুঁয়েমি কী বার্তা দিল? এটাই কি তাহলে বরাক ব্রহ্মপুত্র সমন্বয়? এ ও এ কী এভাবে অপমান করে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার কোনো জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যপদ বাতিল করতে পারত? আসলে আজকের এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী শিলচর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সেইসব বিভীষণরা। যারা নিজের স্বার্থ আদায়ের জন্য দিনের পর দিন খেলাধুলার স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে গেছেন। শুধু চেয়ার আঁকড়ে থাকার জন্য শিলচর ডি এস এর মর্যাদাকেও ক্ষুণ্ন করেছেন।

Comments are closed.