Also read in

কাছাড়ের চার বাসিন্দাকে কলাসিবে আটক করল ওয়াই এম এ, আবগারি কর্মকর্তা জানান, 'তারা গাঁজা সহ ধরা পড়েছিল।'

১০ সেপ্টেম্বর : ইয়াং মিজো অ্যাসোসিয়েশনের (ওয়াইএমএ) একটি ইউনিট যা নিজেকে অরাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে, আইজল অভিমুখে যাওয়া একটি গাড়িকে আটক করে। ওয়াই এম এর ক্যাডাররা বালুবাহী মিনি ট্রাকটি শিলচর -আইজল জাতীয় সড়কে আটকে দেয়।

কলাসিবের আবগারি অফিসার ইনচার্জ ভি এল মুয়ানা রোখুম জানান, তাদের চারজনকে হেফাজতে পাঠানো হয়েছে, আজ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হবে। তিনি বলেন, ‘তারা কাছাড়ের বাসিন্দা। তারা আসামের রেজিস্ট্রেশন নম্বর বহনকারী গাড়ি চালাচ্ছিল। আমরা তাদের কোভিড ১৯ এর পরীক্ষা করেছি, চারজনেরই রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছে। এরপর তাদের হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।’ কলাসিবের আবগারি অফিসার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুর ১:৪০নাগাদ, ওয়াইএমএ ১.৫ সিএম বালি বহনকারী কোলাসিব শহরে টাটা এস গাড়ি আটক করে। তল্লাশি চালালে ট্রাকে ১.৮ কেজি গাঁজা পাওয়া যায়। ওয়াইএমএ কমিটি আমাকে ডেকে ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করে। তারপরে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা যাচাই করেছিলাম।’

ট্রাক চালক রফিক উদ্দিন সহ সহিদ লস্কর, বাবুল হোসেন এবং রাহুল আলম এখন মিজোরামের হেফাজতে আছেন। একটি এনজিও অভিযান চালিয়ে কাছাড় বাসিন্দাদের আটক করার ঘটনা কাছাড়ের লায়লাপুর ও ধলাই এলাকায় চালক ও মালিকদের হতবাক করেছে। লায়লাপুর ট্র্যাক মালিক সমিতির এক সদস্য বলেন, ‘যদি তাদের ফাঁদে ফেলা হয়? এনজিও বা সামাজিক সংগঠনগুলি কি কাছাড়ের মধ্যে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করবে? আসাম সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করুন। পুলিশ যানবাহন অনুসন্ধান করতে পারে। কিন্তু এনজিওদের সেই অধিকার নেই। এছাড়াও, কেউ কেন মাত্র ১.৮ কিলোগ্রাম গাঁজা পাচার করবে? কাছাড় এবং সমগ্র আসামে এখন পর্যন্ত শত শত কিলোগ্রাম জব্দ করা হয়েছে। আমরা এমন কোনো ঘটনা দেখিনি যেখানে চোরাচালানীরা এত অল্প পরিমাণে পাচার করছিল। এর জন্য কাছাড় পুলিশের একটি স্বতন্ত্র তদন্ত এবং হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’
আসলে এমনটা করে মিজোরাম ইটের জবাব পাটকেল দিয়ে দিতে চেয়েছে। কারণ গত শনিবার আসামের সাংবিধানিক সীমানার মধ্যে অবৈধ মদ বিক্রির সময় কাছাড় পুলিশ চার দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করে। সেই সময়, এসপি কলাসিব বলেছিলেন যে তাদের চারজনই ‘নিরীহ গ্রামবাসী’। যারা তাদের বন্ধুদের সাথে দেখা করতে এবং ‘কিছু জিনিস আনতে’ ভ্রমণ করেছিলেন।

দুই রাজ্যের মধ্যে উত্তেজনা ভিন্ন আকারে থাকলেও বজায় থাকে। কিছুদিন আগে, সশস্ত্র মিজো বেসামরিক লোকেরা খুলিছড়ায় আসাম সরকার কর্তৃক অনুমোদিত একটি রাস্তার নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে, মিজোরা ক্যাম্প তৈরি করে এবং এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। তাদের মতে, এলাকাটি মিজোরামের আওতাধীন। এসপি কাছাড়ের নেতৃত্বে আসাম পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে, কিন্তু মিজো সশস্ত্র বাহিনী তাদের অবস্থান গ্রহণ করায় তারা ফিরে আসে।

  • পুলিশের কয়েকজনের সূত্র এটা নিশ্চিত করেছে যে, ড্রোন মারফত নেওয়া ছবি থেকে স্পষ্ট হয়েছে মিজোরাম আসামের সীমান্তে অবৈধভাবে বেশ কয়েকটি ক্যাম্প গড়ে তুলেছে। এবার কাছাড়ের সাধারণ নাগরিকদের হয়রানির মাধ্যমে ইটের জবাব পাটকেল দিয়ে দিতে চাইছে মিজোরাম।

Comments are closed.