Also read in

Motivator Subir Dutta Roy leaves a void in cricket fraternity

প্রাক্তন রনজি ক্রিকেটার সুবীর দত্তরায় কে হারিয়ে শোকাহত শিলচরের প্রাক্তন-বর্তমান তারকারা। মহামারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন প্রাক্তন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। তবে তার এভাবে চলে যাওয়াটা মেনে নিতে পারছে না ক্রিকেটমহল। গোটা বরাক উপত্যকার ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিলেন প্রয়াত সুবীর দত্তরায়। শুধু একজন ভালো ক্রিকেটার নন, দক্ষ কোচও ছিলেন। তবে সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, খুবই ভালো মনের মানুষ ছিলেন। তরুণ ক্রিকেটারদের সাহায্যের জন্য সবসময় এগিয়ে আসতেন। তাই প্রিয় সুবীর দাকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ প্রাক্তন ও বর্তমান ক্রিকেটাররা।
রনজি তারকা প্রীতম দাস বলেন, ‘খুবই খারাপ লাগছে। খবরটা শুনে প্রথমে বিশ্বাসই হচ্ছিল না। ক্যারিয়ারের শুরুতে উনার কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ টিপস পেয়েছি। সব সময় আমার পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলতেন। কিভাবে আরো উন্নতি করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করতেন। তাই এমন একজনকে হারিয়ে খুব দুঃখ হচ্ছে।’

জেলার প্রাক্তন তারকা অন্যতম সেরা ক্রিকেটার অলক সরকার বলেন, ‘আমার দেখা সেরা উইকেটকিপার ছিলেন। তখন সুবীর দা তার ক্যারিয়ারের শেষ ভাগে, আর আমি নিজের ক্যারিয়ার শুরু করছি। সিনিয়র জেলা দলে তার সঙ্গে দু-তিন বছর খেলেছি। এছাড়া বরাক উপত্যকার অনেক টুর্নামেন্টেও আমরা এক সঙ্গে খেলেছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি সুবীর দার মত ক্রিকেট জ্ঞান খুব কমেরই রয়েছে।’ একটি ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে অলক বলেন, ‘স্থানীয় লিগের একটি ম্যাচ ছিল। ভালো ছন্দে ব্যাট করছিলাম। আমার বিপক্ষ দলে কিপিং গ্লাভস হাতে উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন সুবীর দা। সেই ম্যাচে স্টাম্পের বল গুলিকে আমি খুব সুন্দর খেলছিলাম। বড় শট মারছিলাম। কিন্তু স্টাম্পের বাইরে বল গুলিকে যেন একটু ডিফেন্সিভ খেলছিলাম। অবশেষে স্টাম্পের বাইরের একটি বলকে খেলতে গিয়ে আমি সেদিন আউট হয়ে ছিলাম। এরপর লাঞ্চের সময় সুবীর দা আমার কাছে এসে কোথায় ভুল হচ্ছে সেটা ধরিয়ে দেন। খুবই বড় মনের মানুষ ছিলেন সুবীর দা। দারুন মোটিভেট করতেন। তার মৃত্যুতে আমি শোকাহত।’

জেলার আরও এক তারকা সমীক দাস বলেন, ‘বাবার (প্রাক্তন রনজি তারকা অমল দাস) বন্ধু ছিলেন সুবীর কাকু। সব সময় আমাকে গাইড করতেন। নিয়মিত খোঁজখবর রাখতেন। কাকু বলে ডাকলেও সত্যিকার অর্থে তিনি ছিলেন একজন বন্ধুর মত। প্রচন্ড মোটিভেট করতেন। তার সঙ্গে আমার একটা বিশেষ সম্পর্ক ছিল। আমার বাবা মারা যাবার পর তাঁর ফোন নম্বরটা ব্যবহার করতেন সুবীর কাকু। তাই তার ফোন আসলেই একটা বিশেষ অনুভূতি হত। কিন্তু এখন আর সেটা হবে না। এই ঘটনায় আমি মানসিকভাবে ধাক্কা খেয়েছি।’ সমীক আরও বলেন,’আমায় সব সময় মোটিভেট করতেন সুবীর কাকু। আমার এখনও মনে আছে, একবার যোরহাট এর বিরুদ্ধে সিনিয়র আন্তঃজেলা ক্রিকেটে আমি শূণ্যতে আউট হয়েছিলাম। সেই ম্যাচের পর সুবীর কাকু আমায় খুব বকা দিয়েছিলেন। পরের ম্যাচে কিভাবে উন্নতি করা যায়, সেজন্য নানা টিপস দিয়েছিল। আর পরের ম্যাচে চরাইদেওর বিরুদ্ধে আমি সেঞ্চুরি করেছিলাম। এমনটাই ছিলেন সুবীর কাকু। খুবই দুঃখ হচ্ছে, তাকে শেষবারের মতো দেখতেও পেলাম না।’
প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা শিলচর জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্রিকেট সচিব নিরঞ্জন দাস বলেন, ‘নব্বইয়ের দশকে সুবীরদার সঙ্গে সিনিয়র আন্তঃজেলা ক্রিকেটে খেলেছি। দারুন উইকেটকিপার ছিলেন। দারুন ছিল তার রিফ্লেক্স। শুধু একজন ভালো ক্রিকেটার নন, একজন ভালো মানুষও ছিলেন সুবীর দা। কোচ হিসেবে তার অধীনে যোরহাটে একটি টুর্নামেন্টে খেলেছিলাম। খুবই সুন্দর ছিল তার আচার-ব্যবহার। সবাইকে খুব মোটিভেট করতেন।’

জেলার উইকেটকেকিপার-ব্যাটসম্যান তথা কোচ মোশারব হোসেন লস্কর বলেন, ‘আমি যখন প্রথমবার সিনিয়র দলের ট্রায়ালে ডাক পেয়েছিলাম সেই দলের কোচ ছিলেন সুবীর দা। তিনি আমায় কিপিং এর নানান টিপস দিয়েছিলেন। ড্রিলস শিখিয়েছিলেন। একজন কোচ ও মানুষ হিসেবে খুবই বড় মনের ছিলেন সুবীর দা। সব সময় খুব সাপোর্ট করতেন। দেখা হলেই উইকেট কিপিং নিয়ে আলোচনা করতেন। কেমন পারফর্ম করছি, তা নিয়ে আলোচনা করতেন। তার মৃত্যুতে বিরাট ক্ষতি হয়ে গেল।’

Comments are closed.